আজকের তারিখ: ৫ নভেম্বর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার)

নোয়াখালী গণপূর্তে চেক জালিয়াতির অভিযোগ

Publish : 2025-03-20 22:34:00

সংগৃহীত

নির্বাহী প্রকৌশলীর চোখে ধুলা দিয়ে ১৫টি চেক ভিন্ন একাউন্টে নগদায়ন :

নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগে (PWD) চেক ব্যবস্থাপনায় ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে নির্বাহী প্রকৌশলীর নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিভাগীয় হিসাবরক্ষক মোঃ ইমরান হোসেন ও ক্যাশিয়ারের যোগসাজশে হাতিয়া মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজের ঠিকাদার মোঃ ওসমান গনি বিলের ২৩টি চেকের মধ্যে অন্তত ১৫টি চেক ভিন্ন একাউন্টের মাধ্যমে নগদায়ন করে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

 

অনুসন্ধানে জানা যায় গত ০৭/১২/২০২০খ্রিঃ তারিখে হাতিয়া মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ সম্পাদনের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান KE-OG-DESH (JV) এর কর্ণধার নোয়াখালীর স্থানীয় মোঃ ওসমান গণি নামক এক ব্যাক্তির সাথে নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগ এর ১৪ কোটি ৯২ লক্ষ টাকার একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। কাজটি বাস্তবায়নে ঠিকাদার মোঃ ওসমান গণি পূবালী ব্যাংক, দত্তেরহাট শাখায় ওয়ার্ক অর্ডার এর বিপরীতে লোনের আবেদন করেন। সরকারি প্রজেক্টে ঋণ পেতে হলে সরকারের বিল পরিশোধের নিশ্চয়তা গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ, কাজের বিপরীতে যে পেমেন্ট হবে তা সরাসরি ব্যাংকে আসার ব্যবস্থা করা হলেই শুধুমাত্র এ ধরনের ঋন প্রদান করা হয়। এটি সাধারনত সরকার সংশ্লিষ্ট দপ্তর চিঠির মাধ্যমে নিশ্চয়তা প্রদান করে। এক্ষেত্রে কাজের বিপরীতে যে চেক ইস্যু করা হয় সেই চেক এর গায়ে ব্যাংকের অই লোন একাউন্টের নাম্বার, ব্যাংকের নাম ও শাখার নাম লিখে দেয়া হয়। ফলে ঠিকাদার অন্য কোনো একাউন্টে অই চেক নগদায়ন করতে পারেন না।

 

এই কাজের ক্ষেত্রেও বিগত ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১ তারিখে নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগ একটি চিঠির মাধ্যমে লোন সুবিধা অনুমোদন করা হলে হাতিয়া মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজের বিপরীতে ঠিকাদারের ইস্যুকৃত সকল চেক পূবালী ব্যাংক, দত্তেরহাট শাখার অধীন KE-OG-DESH (JV) হিসাব নম্বর ০৫১২-৯০১-০৩৫৩৮৭ এর বরাবর ইস্যু করা হবে বলে লিখিতভাবে জানায়। অর্থাৎ, ইস্যুকৃত সকল চেক এর গায়ে এই একাউন্ট নাম্বারটি লিখে দেয়া নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের জন্য বাধ্যতামূলক। নোয়াখালী গণপূর্তের চিঠির মাধ্যমে প্রদানকৃত নিশ্চয়তায় ব্যাংক মোঃ ওসমান গণি প্রতিষ্ঠানের এর অনুকূলে ৭,৪৬৪,৫১৮.১৪ টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি ও ৩.০০ কোটি টাকা ওয়ার্ক অর্ডারের বিপরীতে ঋণ মঞ্জুর করে।

 

পরবর্তীতে ১৪-০৮-২০২৪ তারিখে পূবালী ব্যাংক পিএলসি, দত্তেরহাট ব্রাঞ্চ পত্রের মাধ্যমে গণপূর্ত বিভাগকে জানায় যে, মো. ওসমান গনির ঋণের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় তা রিনিউ করার জন্য নির্মাণ কাজের অগ্রগতির প্রতিবেদন এবং বিলের চেক সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানা প্রয়োজন। মূলত এই চিঠির পরেই বেরিয়ে আসে ভয়াবহ আর্থিক অসংগতি। দেখা যায় সে সময় পর্যন্ত ইস্যুকৃত ১৩টি চেক এর মধ্যে প্রথম ৭ টি এবং শেষ একটি সহ মোট ৮ টি চেক উক্ত লোন একাউন্ট বরাবর ইস্যু করা হলেও মাঝের ৫ টি চেক লোন একাউন্টে ইস্যু করা হয়নি। সে সময় নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগ এর বিভাগীয় হিসাবরক্ষক মোঃ ইমরান হোসেন ব্যাংকে গিয়ে ম্যানেজারের পা ধরে ক্ষমা চেয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেন। তিনি জানান বিষয়টি জানাজানি হলে তার চাকরী থাকবেনা। কিন্তু কুকুরের লেজ কি আর সোজা হয়। পরবর্তীতে নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগ এর বিভাগীয় হিসাবরক্ষক মোঃ ইমরান হোসেন এ কাজের বিপরীতে আরো ১০ টি চেক ইস্যু করলেও ব্যাংকের লোন একাউন্ট বরাবর এর একটি চেকও ইস্যু করেন নি। ব্যাংকের একটি সূত্রে জানা গেছে এ কাজের বিপরীতে এ যাবত ইস্যুকৃত মোট ২৩ চেকের মধ্যে লোন একাউন্ট বরাবর ইস্যু করা হয়েছে মাত্র ৮টি, যার মোট অর্থ ৩৬,৬৯,৮০৮০.০০ টাকা। বাকি ১৫টি চেক জাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভিন্ন একাউন্টে নগদায়ন করা হয়েছে। সরকারি অফিসের এই অনিয়মের ফলে ঠিকাদারের নিকট পূবালী ব্যাংক দত্তেরহাট শাখার অনাদায়ী লোনের পরিমান ১,৯৫,৭৫,৯১১.৬৫ টাকা। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অর্থ ব্যবস্থাপনায় এই অনিয়ম ব্যাংককে আরো একটি খেলাপি ঋণের কবলে ফেলেছে।

 

অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের বিভাগীয় হিসাবরক্ষক মোঃ ইমরান হোসেন ও ক্যাশিয়ার ক্যাশিয়ার ­মোঃ সোলাইমান এর সঙ্গে ঠিকাদারের যোগসাজশেই এই চেক জালিয়াতি সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, বিভাগীয় হিসাবরক্ষক মোঃ ইমরান হোসেন এর বাড়ি নোয়াখালী, তাই স্থানীয় হওয়ার সুবাদে নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম বিষয়টি জেনেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সাহস পাচ্ছেন না। ২৭ জুলাই ২০২২ সালে ইমরান হোসেন পদোন্নতি পেয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনার দলের সাধারন সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এর তদবীরে নিজ জেলার নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগে পদায়ন নিশ্চিত করেন। ওবায়দুল কাদের তার আত্মীয় হওয়ার সুবিধা তিনি সে সময় কড়ায় গন্ডায় আদায় করেছেন। একই কর্মস্থলে তিনি সাড়ে তিন বছর রয়েছেন। এর পূর্বে তিনি একই বিভাগে হিসাব সহকারী পদে দীর্ঘ দিন চাকুরী করেছেন। এছাড়া ক্যাশিয়ার এই বিভাগে ২০০৪ সাল থেকে চাকুরী করছেন। দীর্ঘদিন একই বিভাগে চাকুরী করায় স্থানীয় ঠিকাদারদের সাথে তাদের ব্যাক্তিগত সম্পর্ক বেশ ভালো। এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাছান কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি হিসাবরক্ষক মো. ইমরান হোসেন এবং ক্যাশিয়ারকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করতে বলেন। তিনি বলেন নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগ এর বিভিন্ন কাজের বিপরীতে ঠিকাদারের লোন আছে। চেক রেডি করা তাদের দায়িত্ত। তারা বলে স্যার আপনি চেকটা সই করে দেন। আমি রেজিস্টার দেখে চেকের গায়ে একাউন্টের নাম লিখে দিবো। এরপর তারা সেটা না লিখে চেকটি ঠিকাদারের কাছে হস্তান্তর করলে আমার পক্ষে সেটা জানা সম্ভব না।

 

প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক তদারকি নিয়ে, এ ঘটনায় একাধিক গুরুতর প্রশ্ন সামনে এসেছে লিখিত নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও চেক কীভাবে ভিন্নভাবে নগদায়ন হলো? ব্যাংক কীভাবে নির্ধারিত একাউন্ট ছাড়া চেক এনক্যাশ করতে দিল? গণপূর্ত বিভাগের অভ্যন্তরীণ আর্থিক নিয়ন্ত্রণ কোথায় ছিল? এই অনিয়মের দায় কার? বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিষয়টি দ্রুত দুদক ও মন্ত্রণালয় পর্যায়ের তদন্ত না হলে সরকারি অর্থ আত্মসাতের এমন নজির ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@peoplenewsbd.com

ময়মনসিংহে জেলা পরিষদ সদস্য পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আলভী


ময়মনসিংহ সদরে জেলা পরিষদ সদস্য পদে আলভীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ভোটাররা


জনগণের ভালোবাসা নিয়ে ‘স্মার্ট’ উপজেলা গড়তে চান সাবেক ছাত্রনেতা আলভী


ময়মনসিংহ সদরকে ‘স্মার্ট’ উপজেলা গড়তে সুযোগ চান আল আমিন আলভী


জাতীয় বিভাগের অন্যান্য খবর

ময়মনসিংহে জেলা পরিষদ সদস্য পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আলভী


ময়মনসিংহ সদরে জেলা পরিষদ সদস্য পদে আলভীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ভোটাররা


জনগণের ভালোবাসা নিয়ে ‘স্মার্ট’ উপজেলা গড়তে চান সাবেক ছাত্রনেতা আলভী


ময়মনসিংহ সদরকে ‘স্মার্ট’ উপজেলা গড়তে সুযোগ চান আল আমিন আলভী


গণপূর্তের ‘ডন’ হবিগঞ্জের এক্সেন কামরুপ (রুল) হাছান গণপূর্তের ‘ডন’ হবিগঞ্জের এক্সেন কামরুপ (রুল) হাছান একই কাজের নামে দ্বৈত বিলের মাধ্যমে নোয়াখালী গণপূর্তের এক্সেন কামরুলের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ একই কাজের নামে দ্বৈত বিলের মাধ্যমে নোয়াখালী গণপূর্তের এক্সেন কামরুলের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ নোয়াখালী গণপূর্তে চেক জালিয়াতির অভিযোগ নোয়াখালী গণপূর্তে চেক জালিয়াতির অভিযোগ আন্দোলনে গাজীপুরে আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৬০ কোটি টাকা আন্দোলনে গাজীপুরে আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৬০ কোটি টাকা আইজিপি : মামলায় নাম থাকলেই পাইকারিভাবে গ্রেপ্তার নয় আইজিপি : মামলায় নাম থাকলেই পাইকারিভাবে গ্রেপ্তার নয়