আজকের তারিখ: ৫ নভেম্বর ২০২৬ (বৃহস্পতিবার)

একই কাজের নামে দ্বৈত বিলের মাধ্যমে নোয়াখালী গণপূর্তের এক্সেন কামরুলের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ

Publish : 2025-07-01 14:39:00

সংগৃহীত

রাজনৈতিক চরিত্রহনন টার্গেটে নোয়াখালী বিএনপি'র হারুন? :

নোয়াখালীর গণপূর্ত বিভাগকে ঘিরে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে এটা কি সরকারি অফিস, নাকি কমিশন ভিত্তিক ব্যক্তিগত সাম্রাজ্য? স্থানীয় বিএনপি ও নাগরিক সমাজের অভিযোগ, এই সাম্রাজ্যের কাণ্ডারি নোয়াখালী গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসান। আর তার রাজনৈতিক টার্গেট নোয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোঃ হারুনুর রশিদ আজাদ।

 

হারুনুর রশিদ আজাদঃ যাকে সরাতে পারলেই নোয়াখালীতে বিএনপি দুর্বল

গত ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ মাহবুব আলমগীর আলোকে আহ্বায়ক ও মোঃ হারুনুর রশিদ আজাদকে সদস্য সচিব করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট নোয়াখালী জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা হয়। হারুন একজনই মানুষ, কিন্তু পদ-পরিচয় অনেকঃ

  • সাবেক নোয়াখালী জেলা ছাত্রদল সভাপতি
  • সাবেক নোয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক
  • সাবেক নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র

দলীয় নেতাকর্মীদের মতে, নোয়াখালীতে তার মতো জনপ্রিয়, কর্মীবান্ধব এবং সৎ নেতার নজির বিরল। দীর্ঘ দমন-পীড়নের পর তার সাহসী নেতৃত্বেই নোয়াখালীতে বিএনপি আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে এ কথা আজ কর্মীরা মুখে মুখে বলে। এ কারণেই বিএনপি ঘরানার ভাষ্য “হারুনকে বদনাম করতে পারলেই নোয়াখালীতে বিএনপির কোমর ভেঙে দেওয়া যাবে”। আর এই নীলনকশা আঁকতেই নাকি ব্যবহার করা হয়েছে গণপূর্তের নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাসানকে।

 

টেন্ডার, দ্বৈত বিল ও ‘ফাঁদ পাতা’ নাটক

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ০৭ মে ২০২৫ তারিখে টেন্ডার আইডি ১০৮৬৯৫৬ এর মাধ্যমে নোয়াখালী সার্কিট হাউজের ভেতরে ডিসি বাংলোর গেট থেকে সার্কিট হাউজের গ্যারেজ পর্যন্ত সড়ক সংস্কার ও উঁচুকরণ কাজের লটারি হয়। কাজটি পায় মোঃ হারুনুর রশিদ আজাদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান M/S Azad Enterprise। জুন মাসে কাজ শেষ করে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় বিল দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে এখানেই থামেননি কামরুল। এরপর ১০/১২ দিন পর একই কাজের বিপরীতে আরও একটি চেক ইস্যু করা হয়, কিন্তু এবার হারুনকে না জানিয়ে। এরপর বলা হয়, “এটা আসলে অন্য এক কন্ট্রাক্টরের বিলের চেক, এন্ট্রি দিতে গিয়ে ভুল করে আপনার প্রতিষ্ঠানের নামে গেছে। আপনি চেক ক্যাশ করে টাকা দিয়ে দেন, আমরা যার বিল তার হাতে ক্যাশ টাকাটা পৌঁছে দেব।”

 

এই কাহিনি শুনিয়ে দ্বিতীয় চেক নগদায়ন করিয়ে নগদ অর্থ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনে আত্মসাত করা। হিসাব অনুযায়ী, প্রতিটি চেকের মাধ্যমে মোট বিল দেখানো হয় ১৪,২১,২৫৬.০০ টাকা; জামানত, ভ্যাট ও আয়কর কেটে প্রতি বারই নেট পরিশোধ দাঁড়ায় ১০,৭৯০৪৮.০০ টাকা। অর্থাৎ একই কাজের বিপরীতে দ্বৈত চেক ইস্যু ও নগদ লেনদেনের এক অন্ধকার খেলা এমনটাই অভিযোগ।

 

‘জিডি করে বদনাম’–অভিযোগ আরও ভয়ংকর

সূত্রের ভাষ্য আরও তীক্ষ্ণ। অভিযোগ আছে, এই দ্বৈত বিলের নাটক সাজানোর পর পরবর্তী ধাপে পরিকল্পনা ছিল হারুনুর রশিদ আজাদের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে মিডিয়ার সামনে বলা “ভয় দেখিয়ে ভূয়া এন্ট্রি ও চেক তুলেছে হারুন।” অর্থাৎ, টেন্ডার-বিলের ‘ফাঁদ’ পেতে একই সঙ্গে আর্থিক কেলেঙ্কারি ও রাজনৈতিক চরিত্রহনন এটাই ছিল মূল লক্ষ্য, এমনটাই দাবি বিএনপি ঘরানার। কিন্তু ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেয়। অভিযোগ মতে, দপ্তরের ভেতরের বিএনপি সমর্থক কর্মচারীরা বিষয়টি টের পেয়ে সরাসরি বাধা দেন। তারা স্পষ্ট করে বলেন, এমন হীন চক্রান্ত করলে এর পরিণতি ভয়ংকর হবে। পরিস্থিতি আঁচ করে নাকি কামরুল পিছিয়ে যান, ঘটনাটি চেপে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং কর্মচারীদের কাছে বিষয়টি বাইরে প্রকাশ না করার জন্য করজোড়ে মিনতি করেন।অনুরোধ জানান। বিএনপি সমর্থক কর্মীরা এখন গর্ব করে বলছেন “নেতার ইজ্জত আমরা নিজেরাই বাঁচাইছি। আল্লাহ রাখলে, কামরুল মিলে কী করবে!”

 

কমিশন সিন্ডিকেট: ঠিকাদারি না হরিলুটের বাজার?

নোয়াখালী গণপূর্ত অফিস নিয়ে ঠিকাদার মহলে যে অভিযোগ সবচেয়ে বেশি শোনা যায় তা হলো “কামরুলের কমিশন সিন্ডিকেট ছাড়া এখানে কিছুই হয় না”। অভিযোগসমূহের সারমর্ম:

  • ২০১৭–২০২২ সাল পর্যন্ত টানা প্রায় পাঁচ বছর একই দপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে থাকা
  • পরে বদলি হলেও আবার তদবিরে একই দপ্তরে প্রত্যাবর্তন
  • নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ছাড়া অন্যদের জন্য টেন্ডার বাস্তবে অপ্রবেশযোগ্য করে রাখা

বিএনপি সমর্থক রাজনৈতিক মহল এই সিন্ডিকেটকে বলছে “আওয়ামী কমিশন কার্টেল”। তাদের অভিযোগ, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ শেষ পর্যন্ত কিছু মুষ্টিমেয় সিন্ডিকেটের পকেটেই বন্দি হয় নোয়াখালীর মানুষের উন্নয়ন নয়। রাজনৈতিক বার্তা পরিষ্কার: হারুনকে আঘাত মানে নোয়াখালী বিএনপির ওপর আঘাত। নোয়াখালীতে মাঠপর্যায়ের হিসেব খুব সোজা

  • হারুনুর রশিদ আজাদ এখন জেলা বিএনপির সংগঠনের হৃদয়ে
  • তাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করতেই প্রশাসনিক ও টেন্ডার–কেলেঙ্কারির নাটক সাজানো হয়েছে এটাই সাধারনের অভিযোগ

তাদের ভাষায়, “গণপূর্ত অফিসকে ব্যবহার করে কামরুলরা যা করছে, সেটা শুধু দুর্নীতি না; এটা নোয়াখালীর বিরোধী রাজনীতির ওপর প্রশাসনিক হামলা।” দুর্নীতি, দ্বৈত বিল, কমিশন বাণিজ্য, রাজনৈতিক চরিত্রহনন সব মিলিয়ে নোয়াখালী গণপূর্ত এখন তীব্র বিতর্কের কেন্দ্রে।

প্রশ্ন একটাই— এ সব কি কেবলই কিছু ‘অফিসি ভুল’, নাকি পরিকল্পিতভাবে সৎ ও জনপ্রিয় একজন বিরোধী নেতাকে ভেঙে দেওয়ার নোংরা খেলা? এর উত্তর আসবে কাগজে-কলমে নিরপেক্ষ তদন্তে নাকি এটাও বাংলাদেশের প্রশাসনিক ইতিহাসে আরেকটি চাপা পড়া কেলেঙ্কারির ফাইল হয়েই থেকে যাবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

-- বিজ্ঞাপন --


CONTACT

ads@peoplenewsbd.com

ময়মনসিংহে জেলা পরিষদ সদস্য পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আলভী


ময়মনসিংহ সদরে জেলা পরিষদ সদস্য পদে আলভীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ভোটাররা


জনগণের ভালোবাসা নিয়ে ‘স্মার্ট’ উপজেলা গড়তে চান সাবেক ছাত্রনেতা আলভী


ময়মনসিংহ সদরকে ‘স্মার্ট’ উপজেলা গড়তে সুযোগ চান আল আমিন আলভী


জাতীয় বিভাগের অন্যান্য খবর

ময়মনসিংহে জেলা পরিষদ সদস্য পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আলভী


ময়মনসিংহ সদরে জেলা পরিষদ সদস্য পদে আলভীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ভোটাররা


জনগণের ভালোবাসা নিয়ে ‘স্মার্ট’ উপজেলা গড়তে চান সাবেক ছাত্রনেতা আলভী


ময়মনসিংহ সদরকে ‘স্মার্ট’ উপজেলা গড়তে সুযোগ চান আল আমিন আলভী


গণপূর্তের ‘ডন’ হবিগঞ্জের এক্সেন কামরুপ (রুল) হাছান গণপূর্তের ‘ডন’ হবিগঞ্জের এক্সেন কামরুপ (রুল) হাছান একই কাজের নামে দ্বৈত বিলের মাধ্যমে নোয়াখালী গণপূর্তের এক্সেন কামরুলের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ একই কাজের নামে দ্বৈত বিলের মাধ্যমে নোয়াখালী গণপূর্তের এক্সেন কামরুলের বিপুল অর্থ আত্মসাৎ নোয়াখালী গণপূর্তে চেক জালিয়াতির অভিযোগ নোয়াখালী গণপূর্তে চেক জালিয়াতির অভিযোগ আন্দোলনে গাজীপুরে আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৬০ কোটি টাকা আন্দোলনে গাজীপুরে আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৬০ কোটি টাকা আইজিপি : মামলায় নাম থাকলেই পাইকারিভাবে গ্রেপ্তার নয় আইজিপি : মামলায় নাম থাকলেই পাইকারিভাবে গ্রেপ্তার নয়