গণপূর্তের ‘চেক-কেলেঙ্কারি’: প্রকৌশলী-ঠিকাদার চক্রের পকেটে হাতিয়া মডেল মসজিদের কোটি কোটি টাকা!
Publish : 2025-04-26 01:17:00
সংগৃহীত
নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগে (PWD) নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাছান এবং ঠিকাদার ওসমান গণির এমন এক ‘বিষাক্ত সখ্যতা’ উন্মোচিত হয়েছে :
আড়ালে আবডালে নয়, বরং খোদ সরকারি
নথিপত্রের চোখে ধুলো দিয়ে ঘটে গেল এক অবিশ্বাস্য জালিয়াতি। ধর্মপ্রাণ মানুষের আবেগের
জায়গা ‘মডেল মসজিদ’ নির্মাণকে পুঁজি করে চলল হরিলুট।
নোয়াখালী গণপূর্ত বিভাগে (PWD) নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাছান এবং ঠিকাদার ওসমান গণির
এমন এক ‘বিষাক্ত সখ্যতা’ উন্মোচিত হয়েছে, যা কেবল দুর্নীতি
নয়, বরং প্রশাসনিক ধৃষ্টতার এক নতুন নজির তৈরি করেছে।
খেলার নেপথ্যে: যেভাবে পাতা হয়েছিল
জাল
ঘটনার সূত্রপাত ৭ ডিসেম্বর ২০২০।
হাতিয়া মডেল মসজিদ নির্মাণের জন্য ১৪ কোটি ৯২ লক্ষ টাকার চুক্তিতে সই করেন ঠিকাদারি
প্রতিষ্ঠান KE-OG-DESH (JV)-এর মালিক ওসমান গণি। নিয়ম অনুযায়ী, পূবালী ব্যাংক
(দত্তেরহাট শাখা) থেকে ৩ কোটি টাকার বিশাল লোন সুবিধা নিতে তিনি গণপূর্তের গ্যারান্টি
ব্যবহার করেন। শর্ত ছিল পরিষ্কার— প্রকল্পের প্রতিটি চেক সরাসরি ব্যাংকের লোন অ্যাকাউন্টে (০৫১২-৯০১-০৩৫৩৮৭)
জমা হবে। ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল হাছান নিজেই লিখিত প্রতিশ্রুতি
দিয়ে ব্যাংককে আশ্বস্ত করেছিলেন।
কিন্তু নাটকের আসল অংক শুরু হয়
কামরুল হাছানের দ্বিতীয় দফায় নোয়াখালীতে পদায়নের পর।
অদৃশ্য একাউন্টে কোটি কোটি টাকা:
৯ টি চেকের রহস্য
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে গা শিউরে ওঠা
তথ্য। লোন অ্যাকাউন্টে টাকা জমা দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও, কামরুল হাছান ও ওসমান
গণি মিলে ব্যাংকের পাওনা বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ভিন্ন একাউন্টে চেক নগদায়ন শুরু করেন। হিসাবরক্ষক
ও ক্যাশিয়ারের বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে নির্বাহী প্রকৌশলী ক্ষমতার দাপটে সই
করেছেন একের পর এক ‘নিষিদ্ধ’ চেকে।
কামরুল হাছান এর অনিয়মঃ
কামরুল হাছান নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার মাত্র ১০/১২ দিনের মধ্যেই তিনি ওসমান গণিকে প্রথমত, সাইটে কাজ ছাড়াই বিল দেয়া শুরু করেন, ২য়ত তার ঋণ একাউন্ট ব্যাতিরেকে চেক ইস্যু করা শুরু করেন। একে একে তিনি ৪ মাসে ৬টি চেক ইস্যু করেন যাতে টাকার পরিমান ছিলো প্রায় ৩ কোটি ১৮ লক্ষ। এমনকি তার জামানত বাবদ রক্ষিত অর্থ তিনি ঠিকাদারকে দিয়ে দেন। এই জামানত বাবদ রক্ষিত ছিলো ৫১ লক্ষ টাকা এর মধ্যে তিনি তিনটি চেক এর মাধ্যমে ৫০ লক্ষ টাকাই দিয়ে দেন। চেক নং যথাক্রমে স-৯৬২০৮০২, স-৯৬২০৮৬৭, স-৯৬২০৮৮৪, স-৯৬২২৬২৩, স-৯৬২২৬২৪, স-৯৬২২৬৪২ এর মাধ্যমে যথাক্রমে ৬৫৩১৭২৬.০০, ৮১০২৫০০.০০, ৩৮২২৩৬.০০, ১২১৫৩৭৫০.০০, ৩৬৪৬১২৫.০০, ৯৯৪৬০৭.০০ টাকার চেক ইস্যু করেন যার প্রতিটিই ছিলো লোন একাউন্ট ব্যাতিরেকে। এছাড়া চেক নং স-৯৬২০৮০৯ , স-৯৬২২৬৭৭, স-২৪৫৬২০১ এর মাধ্যমে যথাক্রমে ২৫ লক্ষ, ২০ লক্ষ ও ৫ লক্ষ অর্থাৎ ৫০ লক্ষ টাকার জামানত এর অর্থের চেক তিনি প্রদান করেন লোন একাউন্ট বাদ দিয়ে। ওসমান গণি এর একজন ম্যানেজার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান যে তিন কোটি টাকার চেক নেয়া হয়েছে তার ২ কোটি টাকার কাজ এখনো হয়নি। চেক নেয়ার জন্য কামরুল হাছান কে ঘুষ বাবদ ৪২ লক্ষ টাকা ক্যাশ প্রদান করা হয়েছে। আর উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী ও উপ সহকারী প্রকৌশলীদের থেকে জোর করে ভয় ভীতি দেখিয়ে কিছু বিল এ স্বাক্ষর নেয়া হয়েছে। আবার কিছু বিল স্বাক্ষর বিহীন রয়েছে। এই ৯ টি চেক ভিন্ন একাউন্টে নগদায়ন করা হয়েছে।
এভাবে ব্যাংকের চোখ এড়িয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। কমিশনের লোভে সরকারি
অর্থের এই নয়ছয় পূবালী ব্যাংককে ঠেলে দিয়েছে ভয়াবহ খেলাপি ঋণের ঝুঁকিতে।
কাজের আগেই বিলের উৎসব!
দুর্নীতির মাত্রা এখানেই শেষ নয়। সরজমিনে তদন্ত বলছে, হাতিয়া মডেল মসজিদের কাজ হয়েছে মাত্র ৪৮%। যার আর্থিক মূল্য দাঁড়ায় মাত্র ৭.৫ কোটি টাকা। অথচ ‘জাদুকরী’ কলমের খোঁচায় কামরুল হাছান বিল পাশ করেছেন প্রায় ১০ কোটি টাকার! শুধু তাই নয়, কাজ শেষ হওয়ার আগেই নিয়ম ভেঙে প্রায় সকল সিকিউরিটি মানি বা জামানত ফেরত দিয়ে দিয়েছেন ঠিকাদারকে। যা সরকারি অর্থের চরম অপচয় এবং সুস্পষ্ট অপরাধ।
"এটি কোনো সাধারণ ভুল নয়, এটি একটি পরিকল্পিত আর্থিক অপরাধ।
লিখিত নিশ্চয়তা দিয়ে ব্যাংকের টাকা আত্মসাতে সহায়তা করা সরাসরি জালিয়াতির শামিল।" — সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা।
উঠেছে কিছু তীক্ষ্ণ প্রশ্ন:
১. লোন অ্যাকাউন্টের বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে ভিন্ন অ্যাকাউন্টে চেক ইস্যু হলো?
২. মাঠ পর্যায়ে অর্ধেকের কম কাজ সম্পন্ন হলেও কেন জামানত ফেরত দেওয়া হলো?
৩. প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ অডিট এবং তদারকি
কি তবে কুম্ভকর্ণের ঘুমে আচ্ছন্ন?
দুদক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের
দ্রুত হস্তক্ষেপ ছাড়া এই ‘লুটেরা সিন্ডিকেট’কে থামানো অসম্ভব বলে মনে করছেন
সংশ্লিষ্টরা। সরকারি টাকায় পকেট ভারী করা এই চক্রের বিচার না হলে, ভবিষ্যতে আরও অনেক
‘হাতিয়া মডেল মসজিদ’ দুর্নীতির কবলে পড়বে।
-- বিজ্ঞাপন --
CONTACT
ads@peoplenewsbd.com
ময়মনসিংহে জেলা পরিষদ সদস্য পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আলভী
ময়মনসিংহ সদরে জেলা পরিষদ সদস্য পদে আলভীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ভোটাররা
জনগণের ভালোবাসা নিয়ে ‘স্মার্ট’ উপজেলা গড়তে চান সাবেক ছাত্রনেতা আলভী
ময়মনসিংহ সদরকে ‘স্মার্ট’ উপজেলা গড়তে সুযোগ চান আল আমিন আলভী
ময়মনসিংহে জেলা পরিষদ সদস্য পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আলভী
ময়মনসিংহ সদরে জেলা পরিষদ সদস্য পদে আলভীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ভোটাররা
জনগণের ভালোবাসা নিয়ে ‘স্মার্ট’ উপজেলা গড়তে চান সাবেক ছাত্রনেতা আলভী
ময়মনসিংহ সদরকে ‘স্মার্ট’ উপজেলা গড়তে সুযোগ চান আল আমিন আলভী
জাতীয় বিভাগের অন্যান্য খবর
ময়মনসিংহে জেলা পরিষদ সদস্য পদে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন আলভী
ময়মনসিংহ সদরে জেলা পরিষদ সদস্য পদে আলভীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ ভোটাররা
জনগণের ভালোবাসা নিয়ে ‘স্মার্ট’ উপজেলা গড়তে চান সাবেক ছাত্রনেতা আলভী
ময়মনসিংহ সদরকে ‘স্মার্ট’ উপজেলা গড়তে সুযোগ চান আল আমিন আলভী